প্রতিটি মানুষের জীবনেই কোনো না কোনো আফসোস থাকে৷বেঁচে থাকতে থাকতে কোনো এক পর্যায়ে এসে সেইসব আফসোসের কিছু কিছু কেউ কাটিয়ে উঠতে পারেন, কেউ নির্ভতে পুষে যান৷ কারো ছোটবেলায় স্ট্যাম্পের খাতা পুষ্ট ছিল না বলে আফসোস করেন, কেউ আফসোস করেন যদি সাহস করে মেয়েটিকে ভালোবাসার কথা বলে ফেলা যেত - আমি আফসোস করি স্কুললাইফে আমার যদি একটা বাইসাইকেল থাকত৷
Showing posts with label দিনলিপি. Show all posts
Showing posts with label দিনলিপি. Show all posts
Saturday, 23 March 2013
Wednesday, 20 January 2010
একটি কথা শুনো বলি, মিছে কথা নয়। চোখের আড়াল হইলেও সে, হৃদয় জুড়ে রয়।
আমি কখনো কবিতা লিখি নাই তেমন করে। তাই পোস্টের শিরোনামটিও আমার নয়। মানুষ বলে সে নাকি মৃত্যুর কথা আগেভাগেই টের পায়। কী জানি .... পোস্টের শিরোনামটি আমার বন্ধু, কলিগ রাজীব দেব মান্নার।আজ লণ্ডন সময় ভোর ৩.৩০ মিনিটে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। মাত্র ৫ বছর তার সঙ্গে কাটিয়েছি তাতেই যতোটা আপন হয়ে উঠেছিলেন তাতে বুঝি তার বন্ধুদের মানসিক অবস্থা।
চরম হাসিখুশি, সারাক্ষণ দুষ্টুমিতে মেতে থাকা প্রাণোচ্ছল এই তরুণ ছিলেন বিলেতের বাংলাদেশী টেলিভিশন 'চ্যানেল এস' এর হেড অফ প্রোগ্রামস। সিলেট রেডিওর সংবাদপাঠক থেকে শুরু করে থিয়েটারের চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত সবই করতেন সৃষ্টিশীল এই মানুষটি। লণ্ডনেও চালু করেছিলেন থিয়েটার চর্চা।
Saturday, 12 December 2009
হাজী মোহাম্মদ তালহা
মাত্র দুইদিন আগে মোহাম্মদ তালহা হজ্জ্ব করে ফিরলেন। হ্জ্জ্ব শেষে নামের প্রথমে হাজী টাইটেল লাগানো নিয়ম কিনা জানি না তবে অনেকেই এমন করেন বলেন মোহাম্মদ তালহাকে আমি হাজী মোহাম্মদ তালহা ভাবতেই পারি। হজ্জ্ব শেষে লণ্ডনে ফিরে আসার পর তার দৈনন্দিন সকালবেলা একটু অন্যরকমভাবে কাটছে। এখন তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিভিডি ছেড়ে পবিত্র মক্কা মদীনার ছবি দেখেন এবং আরবীতে বয়ান শোনেন। আরবী তার জানা না থাকলেও সেটি সমস্যা হচ্ছে না।
Wednesday, 21 October 2009
আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝছি না …
যেন টোকা দিলেই কিংবা ফুঁ দিলেই চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়বে এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে, দেয়ালে হেলান দিয়ে মোবাইলে কথা বলছিল মেয়েটি। পরণে নীল জিন্স আর কালো সোয়েটার। দেখেই বোঝা যাচ্ছে লন্ডনে নতুন এসেছে। মুখটা মলিন হয়ে আছে।
দৃশ্যটি আমি দেখি লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে বাঙালি মালিকানাধীন একটি কলেজে। পরিচিত এক ছোটভাইয়ের এ্যাডমিশন সংক্রান্ত কাজে ওই কলেজে গিয়েছিলাম। লন্ডনে আমি দ্বিতীয়বার এরকম কোনো কলেজে গেলাম। ২ বছর আগে আরেকটি ভিসা কলেজে গিয়েছিলাম আরেকজনের সঙ্গে। তিনি ৪৫০ পাউন্ডের বিনিময়ে সারা বছরের উপস্থিতির হার ও পরীক্ষার রেজাল্ট ঠিকঠাক করে নিয়েছিলেন পরবর্তী ভিসা রিনিউয়ের জন্য।
দৃশ্যটি আমি দেখি লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে বাঙালি মালিকানাধীন একটি কলেজে। পরিচিত এক ছোটভাইয়ের এ্যাডমিশন সংক্রান্ত কাজে ওই কলেজে গিয়েছিলাম। লন্ডনে আমি দ্বিতীয়বার এরকম কোনো কলেজে গেলাম। ২ বছর আগে আরেকটি ভিসা কলেজে গিয়েছিলাম আরেকজনের সঙ্গে। তিনি ৪৫০ পাউন্ডের বিনিময়ে সারা বছরের উপস্থিতির হার ও পরীক্ষার রেজাল্ট ঠিকঠাক করে নিয়েছিলেন পরবর্তী ভিসা রিনিউয়ের জন্য।
Monday, 19 October 2009
কথোপকথন ০১
- কি ব্যাপার আপনার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল নাকি? পাচ্ছিলাম না ..
- হুম। আমি মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখি।
- কেন? জরুরি কোনো ফোন হলে তো মিস করবেন।
- মোবাইল রিংটোন আমার ভালো লাগে না। বিরক্তি লাগে।
- কিন্তু আপনার প্রিয়জন যদি কখনো বিপদে পড়ে ফোন করে, তাহলে তো সাহায্য করতে পারবেন না। তখন?
- হুম। আমি মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখি।
- কেন? জরুরি কোনো ফোন হলে তো মিস করবেন।
- মোবাইল রিংটোন আমার ভালো লাগে না। বিরক্তি লাগে।
- কিন্তু আপনার প্রিয়জন যদি কখনো বিপদে পড়ে ফোন করে, তাহলে তো সাহায্য করতে পারবেন না। তখন?
Wednesday, 15 July 2009
নামচা ০৩
অনেকদিন ব্লগ লেখা হয় না। লিখতে গিয়ে ভাবি কি লিখব। তবে ব্লগ পড়া হচ্ছে নিয়মিত। ব্লগারদের বিভিন্ন বিষয়ে লেখা পড়ে মনে হয় - আরে, এ বিষয়ে আমি নিজেই তো লিখতে পারতাম। পরমুহূর্তে মনে হয় - ভালোই হলো, আমার আর লিখতে হলো না। অফিসে আমার উপর ব্লগিংয়ের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। তারপরও লুকিয়ে চুরিয়ে টুকটাক ব্লগিং করতাম। কিন্তু তাতেও ধরা খেয়ে যাই। শেষ পর্যন্ত অফিস, আমার ব্লগিং বিষয়টাকে ওভারলুক করছে। কুত্তার ল্যাজ যেমন শতচেষ্টাতেও সোজা করা যায় না, তাই বেহায়ার মতো আমার ব্লগিংয়ের চেষ্টাতেও এখন অফিস রা করে না।
Friday, 29 May 2009
ভগবান vs আল্লাহ - গ্যালারিতে ঈশ্বর
ইংল্যান্ড আসার পর থেকেই খুব ইচ্ছে ছিল ছুটিছাটায় ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে ঘুরব। কিন্তু কোনোভাবেই ব্যাটেবলে হচ্ছিল না। কেটে গেল ৪ বছর। আর এবারই সুযোগ এসে গেল ইটালি যাবার।
Friday, 16 January 2009
যেসব ছবি দেখেছি
হলিউডের মুভিই দেখতাম। কিন্তু ইউরোপে এসে হলিউডি মুভি দেখা বাদ দিছি। কারণ প্রচুর ভালো ভালো ইউরোপিয়ান মুভির সন্ধান পাই। সুন্দর গল্প নিয়ে তুলনামুলক কম খরচের মুভিগুলো মন ছুঁয়ে গেছে। তাই হলিউডি ফিল্মের উপর অভক্তি জন্মেছে আর ততোটাই ভালোবাসা জন্মেছে ইউরোপিয়ান ছবির জন্য। এই সাইটের খোঁজ পাওয়ার পর এমন সময় গেছে যে প্রতিদিন গড়ে ২টা ছবি দেখা হতো। এযাবত কয়টা ছবি দেখেছি বের করতে গিয়ে অনেক ছবিই খুঁজে পাচ্ছি না। এখন যে লিস্টটা দিচ্ছি সেটা মে, ২০০৬ থেকে শুরু হয়েছে। রিপুর তাড়নায় অনেক আজেবাজে ছবিও দেখেছি, কিছু কিছু বাজে ছবিও রয়েছে, তবে বেশির ভাগই ভালো। ছবিগুলোর দেশ আর নির্মাণকাল কিংবা তথ্য দিতে পারছি না। তবে এই সাইটে গিয়ে সার্চবক্সে ছবির নাম দিয়ে ডিটেইলস পেতে পারেন। যদি সম্ভব হয় যোগাড় করে দেখে ফেলুন। আপাতত ২০২ টি ছবির নাম ক্রমানুসারে দিলাম ...
Saturday, 3 January 2009
যেমন গেল ২০০৮
এই লেখাটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে এবারও ২০০৮ সালের সালতামামি করছি।
জানুয়ারি মাস পুরোটাই গেছে দেশে যাবার তাড়নায়। ২০০৬ সালের এপ্রিলে দেশে যাওয়ার পর এবারই ২০০৮ এর ফেব্রুয়ারিতে দেশে যাই। এছাড়াও ভিসা বাড়াতে অনেকটা মানসিক প্রশান্তিতে ছিলাম।
জানুয়ারি মাস পুরোটাই গেছে দেশে যাবার তাড়নায়। ২০০৬ সালের এপ্রিলে দেশে যাওয়ার পর এবারই ২০০৮ এর ফেব্রুয়ারিতে দেশে যাই। এছাড়াও ভিসা বাড়াতে অনেকটা মানসিক প্রশান্তিতে ছিলাম।
Saturday, 22 November 2008
নামচা ০২
আজকাল ব্লগে কিছু লিখছি না। লিখতে গেলেই ভাবতে বসি কি লিখব? আমি তেমন কোনো লেখকও না। কিছু লিখলে তাই নিজের কথাই চলে আসে। তবে ব্লগপাড়াগুলোতে ঘোরাঘুরি ঠিকই চলছে। প্রথম আলোয় ব্যান, সামহোয়ারে ব্যান হওয়ার পর আবার একাউন্ট খুলেছি কয়েকমাস আগে, কিন্তু এখনো পর্যবেক্ষণে, কমেন্ট করতে পারি না, পোস্ট প্রথম পাতায় আসে না। সচল থেকে বেরিয়ে এসেছি। রইল বাকি আমারব্লগ। আক্ষরিক অর্থেই আমার ব্লগ। আই লাইক ইট ...
Sunday, 26 October 2008
নামচা ০১
আলুব্লগে প্রকৃতিপ্রেমিক জিজ্ঞাসা করছিল আজকাল আমাকে ব্লগে কেন দেখা যাচ্ছে না। আসলেই সত্যি, আগের মতো ব্লগে আর সময় দিতে পারছি না।
এ বছরের শুরুতেই বিয়ে করেছি। তাই সংসার গোছাতে সময় লেগেছে অনেক। নতুন বাসায় উঠেছি। বউয়ের ব্যাংক একাউন্ট, জিপি, ইন্স্যুরেন্স নাম্বার এগুলোর পিছে সময় দিতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি যা করতে হয়েছে তা হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ। খাওয়া দাওয়া ঠিক সময়ে করার প্র্যাকটিস চালু করতে বাধ্য হয়েছি। সবচেয়ে পীড়াদায়ক যে বিষয়টি মেনে চলছি তা হলো সময়মতো ঘরে ফেরা।
এ বছরের শুরুতেই বিয়ে করেছি। তাই সংসার গোছাতে সময় লেগেছে অনেক। নতুন বাসায় উঠেছি। বউয়ের ব্যাংক একাউন্ট, জিপি, ইন্স্যুরেন্স নাম্বার এগুলোর পিছে সময় দিতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি যা করতে হয়েছে তা হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ। খাওয়া দাওয়া ঠিক সময়ে করার প্র্যাকটিস চালু করতে বাধ্য হয়েছি। সবচেয়ে পীড়াদায়ক যে বিষয়টি মেনে চলছি তা হলো সময়মতো ঘরে ফেরা।
Monday, 31 December 2007
যেমন গেল ২০০৭

শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারছেন কি বলতে চাইছি। এ ধরণের লেখার চেষ্টা এবারই প্রথম। সাধারণত বছর শেষ হবার পর কয়েকটি ঘটনাকে একটু উলটে পালটে দেখে আবার ভুলে যাওয়াটাই ছিল বছর শুরুর প্রথম রুটিন। কিন্তু আজকে মনে হলো কিছু লিখি। এই ২০০৭ সালেই আমার ব্লগিং জীবন শুরু। তাই ভাবলাম অন্যান্য ব্লগারদের সঙ্গে শেয়ার করা যাক আমার ২০০৭ বছরটি।
২০০৭ সালের প্রথম দিনেই আমার লেখা ও পরিচালিত একটি নাটক অন-এয়ার হওয়া দিয়ে বছর শুরু হয়। দেশের বাইরে এই প্রথম এবং একেবারেই আনাড়ী কিছু অভিনেতা অভিনেত্রীদের দিয়ে নির্মিত নাটকটি বেশ সাড়া ফেলে। যদিও মানের বিচারে আমার পূর্ববর্তী কয়েকটি নাটকের চেয়ে এই নাটকটিকে বেশি গুরুত্ব দেই না। তবু অতি সীমাবদ্ধতার ভেতরেও কাজ উদ্ধার করতে পেরেছিলাম, যা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
প্রথম জীবনে সাংবাদিক হতে চেয়েছিলাম। সেমতে কাজ শুরু করেও ছিটকে গেছি টিভি/ফিল্ম মিডিয়ার প্রতি দুর্বার আকর্ষণের জন্য। সাংবাদিক হবার স্বাদ কিছুটা ঘোলে মিটেছে ২০০৭ এর ফেব্রুয়ারিতে। ভাষা দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের বিষয় নিয়ে একটি রিপোর্ট করি। শহীদ বেদীতে ফুল ও ব্যানার সহযোগে আসা বিভিন্ন সংগঠনের বানান ভুলের বিষয়টি রিপোর্টে তুলে ধরা হয়। এসব সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ হাইকমিশন, প্রথম সারির রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন। এছাড়াও ছিল লন্ডনের আরেকটি বাংলাভাষী টিভি চ্যানেল। প্রচন্ড সমালোচিত এবং প্রশংসিত হই এ রিপোর্টের কারণে।
২০০৭ সালের মার্চ মাস আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১২ মার্চ থার্ড আই প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় সামহোয়ারের সঙ্গে। ভার্চুয়াল জগতে এতো বাংলা শব্দ, লেখা, মতের সমাহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি হই। দিন/রাতের বেশ কিছু সময় ব্যয় হতে থাকে ব্লগিংয়ের পেছনে। নিজেকে লেখক কখনোই ভাবিনি, কিন্তু সামহোয়ারে লিখতে গিয়েই হোঁচট খাই। বেশ কিছু ভালো ব্লগারদের ভিড়ে ছাগুদের ম্যাতকারে বিরক্ত হয়ে বন্ধ করে দেই লেখালেখি। শুরু হয় ছাগু পোন্দানো। রাজাকার বিরোধী আন্দোলনে অনেকেরই সাথী হই, অনেককে সাথে পাই। এখনো চলছে এই রাজাকার ঠ্যাঙ্গানো এবং চলবেই। তবে এ মাসেই বহু আকাংখিত ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যাই। রবার্ট ব্রুসের মতো কঠিন অধ্যাবসায়ে পর পর ৪ বার ফেল করে পঞ্চমবারে ড্রাইভিং লাইসেন্স মিলে। একটা গাড়িও কিনে ফেলি। সে আরেক বিরাট যন্ত্রণার ইতিহাস।
এপ্রিল মাস হলো আমার সবচেয়ে প্রিয় মাস। সারা বছর অপেক্ষা করি এই মাসের ১৪ তারিখের জন্য, পহেলা বৈশাখের জন্য। এদিন বাংলাদেশের সব মেয়েকেই আমার খুব সুন্দর লাগে। সারা দেশ আনন্দে ভাসে। আর এ অতি প্রিয় মাসেই আমি চাকরি হারাই। কারণ খুব স্পষ্ট। জামাত বিরোধীতা ও ধর্মের অতি ব্যবহারের অপকার নিয়ে কথা বলায় দ্বিতীয় স্তরের ম্যানেজমেন্টের রোষের শিকার হই। ১৪ এপ্রিল দেশে থাকার চেষ্টা করি, চাকরি হারানোয় সে প্ল্যান বাদ দেই। দেশে যাওয়া হয় না, কেননা ভিসা সেপ্টেম্বরে শেষ। তখন তো একেবারেই চলে যাব। চাকরি হারানোর মাসে গাড়ি দাবড়ে লন্ডন শহর ঘুরে বেড়াই। সহানুভূতি দেখিয়ে বন্ধুরা তেলের পয়সা দেয়। বার ২/৩ ক্যাবিং করলাম (পরিচিত গন্ডীর মধ্যেই)।
মে মাসে বাসা চেঞ্জ করার পর ১৩ তারিখ আবার চাকরি ফেরত পাই। ওইদিন লন্ডনে বৈশাখী মেলা উদযাপিত হচ্ছিল। বাংলাদেশের বৈশাখি মেলার দিন চাকরি হারিয়ে লন্ডনের বৈশাখি মেলার দিন চাকরি ফিরে পাওয়া কাকতালীয় ঘটনাটা বেশ চমকপ্রদ। কিন্তু চাকরি হারিয়ে এবং এরপরে গাড়ি সংক্রান্ত জটিলতায় আমি প্রচন্ড অর্থকষ্টে পড়ি।
জুন মাসে সচলায়তনে যোগ দেয়া ছাড়া আগস্ট পর্যন্ত আর কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। লন্ডনে ১২ বছর পর খুঁজে পাওয়া স্কুলজীবনের দুই বন্ধুর সঙ্গে 'কি করা যায় না যায়' অথবা 'বাড়ি কিনব না নতুন কোনো ব্যবসা করব' এই টাইপের আলোচনায় আড্ডার সময়গুলো বেশি কেটেছে।
তবে সেপ্টেম্বর আমার জন্মমাস বলে এপ্রিলের পর এই মাসটা আমার খুব ভালো লাগে। বাংলাদেশে থাকতে সেপ্টেম্বর মাসের ওয়েদারটাও খুব ভালো থাকত। এ মাসে আমার লন্ডন থাকার ব্যবস্থা (ভিসা) পোক্ত হয়।
অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পুরোটাই নিরামিষ গেছে। বছরের শেষে ডিসেম্বর মাস প্রচন্ড ব্যস্ততায় কেটেছে। এ বছর দেশে যাওয়ার জন্য প্রচুর প্ল্যান করেছি আবার বাতিল করেছি সময় ও পয়সা দুইটা সমন্বয় করতে না পারায়। নতুন বাসায় উঠেছি, রুম গুছিয়েছি। বন্ধু/কলিগরা দেখে আশ্বস্ত হয়েছে। বলেছে - আমি সভ্য হয়েছি।
তবে বছর জুড়েই অন্যান্য প্রবাসীর মতো আমিও বাংলাদেশ মিস করেছি। মিস করেছি সেখানকার মিডিয়াকে। নাটক বানানো ক্ষুধা বেড়েছে কিন্তু মেটানোর সময় হয়ে উঠেনি। সারা বছরই মা-র সঙ্গে ফোনালাপের একটা নির্ধারিত বিষয় ছিল 'আমার বিয়ে' সংক্রান্ত। সেটার এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। এ বছর বাবা রিটায়ার করেছে। নিজের কাঁধে আরো একটু দায়িত্ব বেড়েছে। লন্ডনে বন্ধু বান্ধব বেড়েছে, বেশ কয়েকজন মেয়ে বন্ধুও (অন্য কোনো জটিলতা নাই) জুটেছে এবং অতি স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঙ্গে আমার ঝগড়াটাই বেশি হয়েছে।
তবে সবকিছুর উপর আমি ব্লগকেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভাবছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে (এখনও এক বছরও হয়নি) ব্লগে এতো পরিচিত হয়ে গেছি, এতো ভালো ভালো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, মাঝে মাঝে অবাকই লাগে।
সবাইকে নতুন বছর ২০০৮ এর শুভেচ্ছা।
Subscribe to:
Posts (Atom)