Sunday, 28 December 2008

২০০৮ নির্বাচনে বিজয়ী দলের জন্য মন্ত্রণালয় পুনর্বিন্যাস

গেল বিএনপি সরকারের প্রথম সমালোচনা ছিল বিশাল আকারের মন্ত্রীসভা গঠন করার জন্য। সকলের মন রক্ষার্থে হাওয়া ভবনের ক্যারিশমাটিক জাদুতে আলতাফ/বাবরের মতো অকর্মণ্যরাও মন্ত্রণালয় পেয়েছে। অথচ গত দুই বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাতে গোণা কয়েকজন উপদেষ্টা (ভিন্নর্থে মন্ত্রী) নিয়ে বাংলাদেশের সমস্ত মন্ত্রণালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছেন।

Tuesday, 16 December 2008

নাট্য সমালোচনা : আনিসুল হক/ ফারুকী গংয়ের মশকরা

দেশে থাকতে যেটা অনিয়ম ছিল প্রবাসে সেটাই অর্থাৎ টেলিভিশন দেখাটা মোটামুটি নিয়মের মধ্যে পড়েছে। কারণটা হলো ইন্টারনেট। দেশে নাটক দেখা হতো না তেমন একটা, অথচ প্রবাসে এসে বাংলাদেশী নাটক দেখা হচ্ছে অনেক। এই ঈদেও তাই প্রচুর বাংলাদেশী নাটক ডাউনলোড করে দেখতে শুরু করেছি।

Thursday, 11 December 2008

ব্লগ পরিক্রমা : ব্লগারদের খবর জানবেন যেখানে

ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অথচ ব্লগ, বিশেষ করে বাংলা ব্লগের (কমিউনিটি কিংবা ফোরাম যাই বলি) খোঁজখবর রাখছেন না এমন ইউজার মেলা ভার। বাংলায় চালু ব্লগগুলোতে ঘুরে ফিরে জানা গেছে এখানকার ইউজার অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া থেকে শুরু করে ৫০ উর্ধ্ব বয়সী পর্যন্ত রয়েছেন। নতুন নতুন ব্লগ চালু হচ্ছে, ইউজারদের অংশগ্রহণও তাতে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দলাদলিও। বাঙালির চিরাচরিত আবেগের (?) কারণে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্লগাররা। অমুক ব্লগার তমুক ব্লগে লিখতে পারেন না, তাই যান না; অমুক অমুক ব্লগাররা তমুক তমুক ব্লগসাইটকে এড়িয়ে চলেন - তাই যতোটা মিথস্ক্রীয়ার প্রয়োজন ততোটাই যেন হয়ে উঠছে না। ক্ষতি যেটা হচ্ছে তা হলো অনেক ভালো লেখা আমরা মিস করছি।

Friday, 28 November 2008

কলকাতার উপন্যাসিকদের উপন্যাস নিয়ে বাংলাদেশে টিভি সিরিয়াল বানানোর তীব্র প্রতিবাদ করছি

সর্বপ্রথম কে কলকাতার উপন্যাসিকদের উপন্যাস নিয়ে টিভি সিরিয়াল কিংবা একক নাটক বানানো শুরু করেছিল সেটা মনে করতে পারছি না। তবে আফসানা মিমি-র কৃষ্ণচূড়া প্রডাকশনের 'কাছের মানুষ' সিরিয়ালটিই হয়তো বা প্রথম হতে পারে। সূচিত্রা ভট্টাচার্যের এ উপন্যাস নিয়ে সিরিয়াল শুরু হতে যাচ্ছে এটা প্রথম শুনতে পাই আমার প্রজাপতিকাল টেলিফিল্মের শুটিংয়ের সময়। মেকাপম্যান রবীনের কাছে কাছের মানুষের এককপি দেখতে পেয়ে জানতে পারি মিমি আপা তাকে এই বইটি পড়তে বলেছেন যেন আর্টিস্টদের মেকাপ সম্পর্কে সে আগেভাগেই একটা ধারণা করতে পারে। জানি না মিমি আপা তার অন্য কোনো সিরিয়াল নিয়ে এতোটা সিরিয়াস ছিলেন কিনা অর্থাৎ বন্ধন নাটকের সময়ও কি তিনি তার মেকাপম্যানকে স্ক্রিপ্ট পড়তে দিয়েছিলেন কিনা জানতে পারিনি।

Saturday, 22 November 2008

নামচা ০২

আজকাল ব্লগে কিছু লিখছি না। লিখতে গেলেই ভাবতে বসি কি লিখব? আমি তেমন কোনো লেখকও না। কিছু লিখলে তাই নিজের কথাই চলে আসে। তবে ব্লগপাড়াগুলোতে ঘোরাঘুরি ঠিকই চলছে। প্রথম আলোয় ব্যান, সামহোয়ারে ব্যান হওয়ার পর আবার একাউন্ট খুলেছি কয়েকমাস আগে, কিন্তু এখনো পর্যবেক্ষণে, কমেন্ট করতে পারি না, পোস্ট প্রথম পাতায় আসে না। সচল থেকে বেরিয়ে এসেছি। রইল বাকি আমারব্লগ। আক্ষরিক অর্থেই আমার ব্লগ। আই লাইক ইট ...

Thursday, 13 November 2008

আমি কেন বাংলাদেশেই ফিল্ম বানাতে চাই


সচলে সুমন চৌধুরির লেখাটা পড়লাম। হাজারো ভিড়ের মাঝে আমার প্রডাকশন তার ভালো লেগেছে শুনে ভালো লাগল। থ্যাঙ্কস সুমন চৌধুরী। তবে আক্ষেপ রয়ে যাচ্ছে আরো ভালো প্রডাকশন বানাতে পারছি না বলে। সবাই প্রশ্ন করে যে লন্ডনে মিডিয়ার সঙ্গে আছি অথচ নিয়মিতভাবে নাটক বানাচ্ছি না কেন? আসলে এখানে মনের মতো কাজ করার সুযোগ নাই। প্রথমত রয়েছে আর্টিস্ট প্রবলেম। এখানে সবাই অ্যামেচার। যদিও তাদের শিখিয়ে নিয়ে কাজ করা যায় কিন্তু সবাই কোনো না কোনো প্রফেশনে জড়িত। তাই শিডিউল মেলানো টাফ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত রয়েছে শুটিং কিংবা ফিল্মিংয়ের সমস্যা। লন্ডনের রাস্তাঘাটে যেনতেনভাবে ক্যামেরা নিয়ে ফিল্মিং করা যায় না। অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে, না থাকলে পুলিশ মামুরা হাজির। কোর্সের এ্যাসাইনমেন্ট বলে আর কতো পার পাওয়া যায়। রয়েছে হ্যান্ডস বা লোকবলের সমস্যা। লাইট, বুম, ট্রাইপড ছাড়াও মনিটর, স্ক্রিণ এসব বহন কিংবা ধরার লোক নাই। তাই শুধুমাত্র ক্যামেরা আর প্রাকৃতিক আলোর উপর নির্ভর করে, লুকোচুরি করে (যে কাজটা হুমায়ুন আহমেদসহ আরো আরো বড় বড় বাংলাদেশি পরিচালকরা দেশের বাইরে গিয়ে করে থাকেন) ফিল্মিং করাটা আমার ধাতে সয় না। লন্ডনে ফিল্মিং করব অথচ লন্ডন আই, টাওয়ার ব্রিজ এগুলো না দেখালে কিভাবে হবে! ফ্রান্সে গেলে আইফেল টাওয়ারের নিচে কিংবা গ্রিসে গেলে ওই যে খাম্বাগুলো আছে সেগুলার তলায় যদি আমার নায়ক-নায়িকারা একটু প্রেম করার সুযোগ না পায় তাইলে লন্ডন, ফ্রান্স বা গ্রিসে নাটক/সিনেমা বানাব কেন? পার্কে গাছের চিপায়, বাসার সামনের রাস্তায়, হোটেলের লবিতে কিংবা পরিচিতদের রেস্টুরেন্টে ১/২ সিকোয়েন্স থাকতে পারে, পুরো নাটক/সিনেমা নামানো যায় না।

Wednesday, 12 November 2008

Britain & Sex 2008 - Homosexuality and Safe Sex

গেল অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে বৃটেনের পত্রিকা The Observer একটি সাপ্লিমেন্টারি বের করে SEX UNCOVERED নামে। এতে বৃটেনবাসীর সেক্স ও তাদের চিন্তাভাবনাগুলো উঠে আসে। সেই জরিপের চুম্বক অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পোস্ট আকারে দেয়া হলো।

আজ হলো শেষ পর্ব

Sunday, 9 November 2008

Britain & Sex 2008 - Home and Away

গেল অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে বৃটেনের পত্রিকা The Observer একটি সাপ্লিমেন্টারি বের করে SEX UNCOVERED নামে। এতে বৃটেনবাসীর সেক্স ও তাদের চিন্তাভাবনাগুলো উঠে আসে। সেই জরিপের চুম্বক অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পোস্ট আকারে দেয়া হবে।

আজ হলো তৃতীয় পর্ব – HOME AND AWAY




Friday, 7 November 2008

Britain & Sex 2008 - Manhood and Monogamy

গেল অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে বৃটেনের পত্রিকা The Observer একটি সাপ্লিমেন্টারি বের করে SEX UNCOVERED নামে। এতে বৃটেনবাসীর সেক্স ও তাদের চিন্তাভাবনাগুলো উঠে আসে। সেই জরিপের চুম্বক অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পোস্ট আকারে দেয়া হবে।

আজ হলো দ্বিতীয় পর্ব – MANHOOD AND MONOGAMY

Thursday, 6 November 2008

Britain & Sex 2008 - Quantity and Quality


গেল অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে বৃটেনের পত্রিকা The Observer একটি সাপ্লিমেন্টারি বের করে SEX UNCOVERED নামে। এতে বৃটেনবাসীর সেক্স ও তাদের চিন্তাভাবনাগুলো উঠে আসে। সেই জরিপের চুম্বক অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পোস্ট আকারে দেয়া হবে।

আজ হলো প্রথম পর্ব – QUANTITY AND QUALITY

Monday, 3 November 2008

আওয়ামী লীগের খুশির কারণ তারা ইলেকশনে জিতবে

সচলের এই পোস্টে প্রশ্ন করা হয়েছে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণায় আওয়ামী লীগ এতো খুশি কেন? সচলে কমেন্ট করি না তাই এখানে বলছি। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতবে বলেই এতো খুশি হচ্ছে। কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলা যাক ...

Wednesday, 29 October 2008

এবার তবে নিজের ঘর সাজাই

রাশেদ যখন ব্লগস্পট নিয়ে টিউটোরিয়াল দিতে শুরু করল আমিও আগ্রহী হয়ে নিজের ব্লগস্পটটাকে নাড়তে শুরু করলাম। এর আগে এই ব্লগস্পটে শুধু লেখাগুলো জমিয়েই রাখতাম, আর কিছু করতাম না। কিন্তু রাশেদের টিউটোরিয়াল পড়ে ব্লগ সাজাতে গিয়ে কোনো দিশা পেলাম না। সময় নষ্ট না করে রাশেদকে ইমেইলে ইউজার আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্লগ সাজাতে বললাম। রাশেদ করেও দিল কিন্তু আমি নতুন একটা থিম চেঞ্জ করতে গিয়ে গ্যাঞ্জজাম লাগিয়ে ফেললাম। পুনরায় রাশেদকে বিরক্ত করতে থাকি। রাশেদও বিজি, করি করি করেও আমার ব্লগটা সাজানোর সময় পেল না। আমিও ভুলে গেলাম নিজের ব্লগের কথা ...

Sunday, 26 October 2008

নামচা ০১

আলুব্লগে প্রকৃতিপ্রেমিক জিজ্ঞাসা করছিল আজকাল আমাকে ব্লগে কেন দেখা যাচ্ছে না। আসলেই সত্যি, আগের মতো ব্লগে আর সময় দিতে পারছি না।

এ বছরের শুরুতেই বিয়ে করেছি। তাই সংসার গোছাতে সময় লেগেছে অনেক। নতুন বাসায় উঠেছি। বউয়ের ব্যাংক একাউন্ট, জিপি, ইন্স্যুরেন্স নাম্বার এগুলোর পিছে সময় দিতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি যা করতে হয়েছে তা হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ। খাওয়া দাওয়া ঠিক সময়ে করার প্র্যাকটিস চালু করতে বাধ্য হয়েছি। সবচেয়ে পীড়াদায়ক যে বিষয়টি মেনে চলছি তা হলো সময়মতো ঘরে ফেরা।

Saturday, 4 October 2008

নাস্তিকেরা কেন 'ইসলাম লইয়া' বেশি ফাল পারে?

সামহোয়ারের ফেল্টুস একটা পোস্ট দিয়েছে। তাতে তিনি যে প্রশ্নটি করেছেন সেটাতে উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরুর অনেক ব্লগারই খুশিতে বগল বাজিয়ে হিম ঠান্ডায় উষ্ণ কিংবা প্রচন্ড গরমে লেবুর শরবত পান করার সুখ পাচ্ছেন। নাস্তিকদের আহবান করছেন উত্তর দিয়ে যাবার জন্য। একজন নাস্তিক হিসেবে আমি আমার কথাটা বলছি।

তবে প্রথমে একটু প্রারম্ভিকা।

Friday, 3 October 2008

প্রিয় ব্লগার সুমন রহমান (বিদ্যাকূট) এর প্রতি

সাম্প্রতিককালে হযরত মুহাম্মদ নিক নিয়ে এক আবালের কর্মকান্ডে আমারব্লগ বেশ গরম হয়ে উঠেছে। যারা নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী, যুক্তিতর্কে বিশ্বাসী তারা কখনোই এমনটা করবেন না। নাস্তিকের ধর্মকথার সাম্প্রতিক পোস্টে ও মন্তব্যে এ বিষয়টা সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে ব্লগমন্ডলের এ পাড়া ও পাড়ায় বেশ আলোচনা চলছে।

Friday, 12 September 2008

গাড়ি বয়ান ...

জীবনের প্রথম গাড়িটা কিনেছিলাম জীবনের প্রথম নাটকের বিক্রিলব্ধ লাভের টাকা থেকে। সেটা ছিল মারুতি সুজুকি ৮০০ সিসি। ঘটনাটা তবে গোড়া থেকে খুলে বলি ...

২০০১ সালে প্রথম নাটক পরিচালনা করি। বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে যা হয়, প্রথম কাজেই দেখিয়ে দেবার একটা প্রবণতা থাকে। আমার মধ্যেও সেটা ছিল। কিন্তু পরিণতি তেমনটা হয়নি। যা ভেবেছিলাম সেরকম করে নাটকটা বানাতে পারিনি। প্রথম কাজ হিসেবে অনেক ভুলত্রুটি রয়ে যায় (যা দেখলে এখনো বিব্রত ও লজ্জিত হই, যদিও সাধারণ দর্শকরা সেটা বুঝতে পারত না)। নাটকটি বিক্রির চেষ্টা করি এবং যথারীতি ফেল মারি। আমার মাথায় বাড়ি পড়ে ...

Monday, 18 August 2008

সম্পাদনার টুকিটাকি (পর্ব ০২)

পর্ব ০১

এডিটিং বা সম্পাদনা বিষয়ক টুকিটাকি সিরিজের এটা দ্বিতীয় পর্ব। এখানে এডিটর বলতে আমরা ভিডিও এডিটর অর্থাত টিভি মিডিয়ার এডিটর ও তার কাজ সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

Tuesday, 12 August 2008

সম্পাদনার টুকিটাকি (পর্ব ০১)

সম্পাদনা বা এডিটিং বিষয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে ছিল অনেকদিনের। তবে সেটা বোদ্ধা কিংবা তাত্ত্বিকদের জন্য একেবারেই নয়। অতি সহজ ভাষায় সাধারণদের জন্য এডিটিং সম্পর্কে ধারণা দেয়াটাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

Monday, 21 July 2008

ভারত, বিডিআর, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর কিছু কথা

জরিপের কাজে আমি বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেই ঘুরেছি। ইন্টারভিউয়াররা যখন হামলে পড়ত সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার যাওয়ার জন্য তখন আমি কোণে পড়ে থাকা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, রংপুরের পীরগঞ্জ, খাগড়ছড়ির দীঘিনালা, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, ভোলার মনপুরা কিংবা বরিশালের গৌরনদী তুলে নিতাম। আমার লজিক ছিল বাংলাদেশের বিখ্যাত জায়গাগুলোতে কোনো না কোনোদিন যাওয়া হবেই। তাই এই ফাঁকে অখ্যাত অঞ্চলগুলোতেই বরং যাই। তাই ঘটেছে। বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, বান্দরবানের চিম্বুকে-কেওকারাডংয়ে, সিলেটের জাফলংয়ে। আমার বরাবরই সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো বেশ পছন্দের ছিল। কি সেটা নদীপথের, পাহাড়ের কিংবা সমতলের।


একবার বৃষ্টি দেখতে গিয়েছিলাম সিলেটের জাফলংয়ে। ঝুমবৃষ্টির মধ্যেই আমরা ছোট ডিংগি নৌকায় নদী পার হয়ে একটা ছোট চাবাগানে যাই। এদিক সেদিক ঘোরাঘুরির পর একজন বিডিআর সদস্যকে দেখতে পেয়ে কাছে যাই। আমরা তো আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজছি কিন্তু সেই বিডিআর রাইফেল কাঁধে ঝুলিয়ে ফুটো হয়ে ছাতায় বৃষ্টি আগলে দাঁড়িয়ে দূরে তাকিয়ে আছেন। বয়স হয়তে ৪০-৪৫ হবে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি,

: আপনি কি দেখেন?
: ইন্ডিয়া। মানুষ।
: কই কিছুই তো দেখি না। খালি তো পাহাড়।
: আমি দেখি। ওই যে ওইদিকে দেখেন।

বিডিআরের নির্দেশিত দিকে আমি আঙ্গুল তুলে বলি,

: ওই দিকে ?
: আরে কি করেন। হাত নামান। হাত তুইলা দেখাইয়েন না।
: কেন? গুলি মারবে?
: মারতেও পারে।
: আচ্ছা ওরাও কি আপনারে দেখে?
: হ দেখে। ওরা দূরবীন দিয়া দেখে বাংকারে বইয়া।
: আপনের দূরবীন কই?
: আমি আল্লাহর দূরবীন দিয়া দেখি।

আমি লোকটার চোখে তাকাই। ভ্রু কুঁচকে ক্রমাগত চোখ এপাশ ওপাশ করে কি যেন খুঁজছেন। কাঁধ থেকে ঝুলে থাকা রাইফেলটা শক্ত হাতে চেপে ধরে আছেন। আল্লাহর দেয়া দুই দুরবীন তখন চকচক করছে।

: আচ্ছা কাদের অস্ত্র বেশি আধুনিক? বিডিআরের না বিসিএফের?
: আমাগো বন্দুকগুলা ভালো।
: কিরকম?
: ওরা তো একটা গুলি মাইরা মুইতা ঠান্ডা কইরা আবার গুলি মারে। আমরা ততক্ষণে অনেকগুলা গুলি করতে পারি। চাইনিজ মাল তো।
: তাইলে পেপারে যে এতো পড়ি বিএসএফ খালি বিডিআর মারে।
: কারণ ওগো সিস্টেম ভালো।
: কিরকম সিস্টেম?
: হাত তুইলেন না। আমি যেদিকে কই হেদিক তাকান। দেখছেন ওই যে গাছের নিছে একটা ছোট ঘর। ওইটা একটা ওয়াচক্যাম্প। ওইখানে কমপক্ষে ৪টা বিএসএফ আছে। তারপর ডানদিকে দেখেন আধামাইলও হইব না আরেকটা। দেখছেন?
: না।
: আরে বড় গাছটার আড়ালে। ওইখানে আরো ৪/৫ জন আছে। ওগো ক্যাম্পগুলার মধ্যে চলাচলের লাইগা গাড়িও আছে। এহন যদি আমারে গুলি মারে তাইলে একলগে কয়টা মারতে পারব চিন্তা করেন। আমি যদি বাঁইচাও যাই, নদী পার হইয়া ক্যাম্পে যাইতে পারুম না। কারণ গুলির শব্দে সব মাঝিরা নৌকা নিয়া ঘাটে যাইব গা ভয়ে। আমার কাছে ওয়ারল্যাসও নাই যে ক্যাম্পে খবর পাঠামু।
: তাইলে আপনারা এভাবেই ডিউটি করেন? ভয় লাগে না?
: কিয়ের ভয়? আমার কোনো ডর ভয় নাই।

ডরভয়হীন অকুতোভয় এই সীমান্তরক্ষীরে আবারও একলা ফেলে আমরা চলে যাই। অহেতুক আত্মতৃপ্তি নিয়ে ফিরি - আমাগো চাইনিজ মাল, ওগো বন্দুক দিয়া গুলি বাইরাইলে মুইতা ঠান্ডা করতে হয়। কিন্তু ভাবি না ওই ‘সিস্টেম’-এর কথা। আল্লাহর/ ভগবানের দুরবীন দিয়া সীমান্ত পাহারায় পাঠিয়ে দিই হান্নান আর কৃষ্ণপদদের।

* * * * * * * * * * * * *

আমি ইন্ডিয়ায় ছিলাম টানা চারমাস। অম্লমধুর অনেক অভিজ্ঞতা সেখানে হয়েছিল। ইন্সটিউটের অনেকের সঙ্গেই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলাপ হয়েছিল। দুয়েকজন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি পাসপোর্ট নিয়ে এসেছ কেন এখানে? ইন্ডিয়ায় আসতে কি তোমাদের পাসপোর্ট লাগে? কই নেপালী কারো তো লাগে না।

এই অজ্ঞতা অবশ্য ইনস্টিউটের সবার ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ে সবারই একটা তাচ্ছিল্যভাব এবং আগডুম বাগডুম কল্পনা ছিল। এমনকি কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে পাশ করা শ্বাশতীও তার কলেজ পর্যন্ত জানত বাংলাদেশে হিন্দুদের শুধু সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামেই দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে এমন ভাব করত যে, নেপাল আর বাংলাদেশ ইন্ডিয়ারই স্টেট। শুধু দেশ হিসেবে এদেরকে দেখা হচ্ছে আরকি। অনেকই বিশ্বাস করত, আইএসআই-এর আরেকটা সদর দপ্তর বাংলাদেশে আছে। তাদের এ ধারণা যে ইন্ডিয়ার মিডিয়ার তৈরি সেটা আর বলাবাহুল্য।

ইন্সটিউটে আমার একবার হাতাহাতি হয়েছিল একজনের সঙ্গে। ‘বাংলাদেশ - ইট ইজ জাস্ট ফর ইন্দিরা গান্ধী’ এই বাক্যটার বিরুদ্ধে আমার যুক্তিতর্ক সে মানতে পারে নাই। আমাকে সেদিন সে ‘পিটাই’ করত যদি আশেপাশের কেউ না ঠেকাতো। ‘পড়াই কে লিয়ে’ আসার পর আমি বাংলাদেশ নিয়ে এতো কথা কেন বলি?

* * * * * * * * * * * * *

সম্প্রতি বিএসএফ কর্তৃক বিডিআর নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি অবাক হই না। পাশ্ববর্তী দেশ হিসেবে ইন্ডিয়ার এই দাদাগিরি নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশকে অলমোস্ট নিজের বাজারে পরিণত করে নিয়েছে। বাংগালি জাতিকে আমি সবসময়ই বিপণনবিমুখ একটি জাতি হিসেবেই দেখি। তার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে রয়েছে দুর্নীতি। আর তারই সুযোগে প্রতিবেশি এই দেশটি দাদাগিরি ফলাচ্ছে। টেলিভিশনে ইন্ডিয়ান সংস্কৃতি আর পাকিস্তানি ইসলামি জোশের ঠেলায় হারাতে বসেছি বাংগালি কালচার। মুক্তিযুদ্ধ সাহায্য করেছে বলে এদেশীয় কিছু সুশীলের আনন্দবাজারীয় দালালি আর মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত কুত্তার বাচ্চাদের পাকিস্তানি পদলেহনে অস্থির হয়ে গেছে পুরো বাংলাদেশ। আর এসবের গ্যাড়াকলে পড়ে হান্নান আর কৃষ্ণপদেরা ঈদ-পূজায় দেশে যেতে পারে না ….

…. মেজাজ হঠাৎই খারাপ হয়ে গেছে। আর লিখলাম না ….

এ্যারে হুমায়ুন্যা … বালাছোত নি?

আইজকাইল সবাই বলা শুরু করছে যে বিশেষ কইরা ১২ থিকা ১৬ বছরের বাঙালি পুলাপাইনরা হুমায়ূন পইড়া বই (আউট বই) পড়ার অভ্যাস করছে। শুইনা আমার খটকা লাগে। পড়ার অভ্যাস করছে মানেটা কি? ১২ বছরের হওনের আগে কি ওই পোলাপাইন আর কোনো বই পড়ে নাই! ঠাকুমার ঝুলি, ঈশপের গল্প এসব কি আর নাই! যদি নাই থাকে নিশ্চয়ই রংচংয়া কোনো না কোনো বই তো বের হইছ। তাহলে এসব পড়া বাদ দিয়া ১২ থিকা ১৬ বছর পর্যন্ত ওয়েট করছে হুমায়ূন পইড়া বই পড়া অভ্যাস করণের লাইগা?
এসব শুনে আরো মনে হয় আমার বয়স বাইড়া গেছে। কারণ আমি ছুডুবেলায় যখন বই পড়া অভ্যাস করছি তখন হুমায়ুনরে চিনতাম না। বই পড়ছি কুয়াশা, দস্যু বনহুর, আর সবচেয়ে বেশি বই পড়ছি সেবা প্রকাশনীর। আমার বই পড়ার অভ্যাস করছে সেবায়। পরে ‘সৌরভ’ দিয়া হুমায়ূনের সাথে পরিচয়। আস্তে আস্তে হয়ে উঠেছি সর্বভুক। প্রথম প্রথম হুমায়ুন ব্যাডার লেহা পছন্দ করতাম। পরে যখন দেহি হালায় আগডুম বাগডুম লিখতাছে তখন বাদ্দিয়া দিছি। হের লেখা এহন টয়লেট টিস্যুর লাহান।


হুমায়ুনের নাকি একটি নির্দিষ্ট পাঠকশ্রেণী আছে। তারা কারা? স্কুলের শেষের দিকের থেকে শুরু করে কলেজ পড়ুয়া সবাইকে নিয়ে ভার্সিটির প্রথমদিকের ছাত্রছাত্রী পর্যন্ত সবাই নাকি হুমায়ুনের পাঠক। আগেই বিভিন্ন ফোরামে, ব্লগে বলা কথায় জেনে গেছি যে হুমায়ুন এদের পাঠাভ্যাস করিয়েছে আর তাই তারা বই পড়ছে। কিন্তু কি বই? হুমায়ুনই শুধু?
হ্যা কথা সত্য। হুমায়ুন যদি কোনো পাঠক তৈরি করে থাকে তবে সে শুধু হুমায়ুনপাঠক তৈরি করেছে। ওইসব পাঠকদের হুমায়ুনের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে, বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়নি। হুমায়ুনের বই যারা পড়ে তারা অন্য কোনো লেখকের বই পড়তে চায় না, মজা পায় না। জিগাইলে কয়, হুমায়ুন এতো মজা কইরা লেখে যে হেভ্ভি লাগে। অন্য বইগুলা এরম না।
আর তাই সবার মতো আমি মানতে পারি না যে হুমায়ুন বাঙালির পাঠাভ্যাস তৈরি করছে। হুমায়ুন তার নিজের নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেছে। ক্রেডিট দিতে চাইলে আমি রসময় গুপ্তরেও দিতে চাই। হেই ব্যাডায়ও বাঙ্গালির পাঠাভ্যাস তৈরি করছে। যদি ভালো কইরা কই, তাইলে সংবাদপত্রও বাঙালির পাঠাভ্যাস তৈরি করে।
এবার আসা যাক হুমায়ুনের নাটক-সিনেমা নিয়া। প্রথমেই বলে রাখি, হুমায়ুন আহমেদের যেসব নাটকের (এইসব দিনরাত্রি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, বহুব্রীহি সহ আরো অনেক) প্রশংসা যা করা হয় তার একটাও তার নিজের পরিচালিত নয়। মোস্তাফিজুর, নওয়াজিশ, বরকতউল্লাহরা বানিয়েছেন এসব। হুমায়ুন আগে ভালো লিখতেন, ভালো পরিচালকেরা সেটা পরিচালনা করতেন। সো নো ক্রেডিট ফর হুমায়ুন।
এবার বলি তার অন্যান্য নাটকগুলার কথায়। যারা মিডিয়ার বাইরের লোক তাদের জানিয়ে রাখি অধিকাংশ নাটক হুমায়ুন নিজে পরিচালনা করেন না, তার এ্যাসিস্ট্যান্টরা করেন। তিনি তখন নূহাশ পল্লীর স্ইমিংপুলে সাঁতার কাটেন কিংবা খাস কামরায় কাউকে নিয়ে একান্ত সময় কাটান। যাক, সেসব বড়দের খাবার - আমাদের জন্য সেরেল্যাক। তো ইদানিংকালের তার নাটকে আমরা কি পাই? কোথাও কেউ নেইয়ের বাকের ভাইকে (অর্থাৎ সেরম একটা চরিত্র) আর কে কোন নাটকে দেখছেন মনে করেন তো? অয়োময়ের মির্জা সেই যে রাজ্য হারালো আর কোনো নাটকে সেটা আর ফিরে পেলো না। আমি উন্মুক্ত ফোরামে সবাইকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, যে কেউ হুমায়ূনের ইদানিংকালের দশটি নাটক এনে দেন। আমি ভালো কোনো সম্পাদককে দিয়ে এডিট করিয়ে আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক বানিয়ে দিব। আপনারা ধরতেও পারবেন না। গড়পড়তা অন্যান্য নাটকগুলোর মতো এটিও একটি হুমায়ুনীয় নাটক বলে মনে হবে আপনার। এতোটাই ফালতু, এতোটাই স্বকীয়তাহীন।
হুমায়ুনের পরিচালিত ফিল্ম? আজকাল খারাপ লাগলেও সমালোচনা করা যায় না যদি তাতে মুক্তিযুদ্ধের কোনো ছাপ থাকে। আগুনের পরশমনি’র স্ক্রিপ্ট মোটামুটি মানের হলেও উৎরে গেছে কেন সেতো প্রথমেই বলে রাখছি। এরপরের ফিল্মগুলো? ভাই পয়সা আছে, নাম আছে। তাই ফিল্মের ক্যামেরা ভাড়া করে একটা নাটক বানিয়ে বড় পর্দায় দেখিয়েছে। তুমি চুদির বাল কেডা এসব বোঝার।
আজকাল হুমায়ুনকে ব্যক্তি আর লেখক হিসেবে আলাদা করে দেখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। হ ঠিক কথা। লেখক হিসেবে তিনি আগে খুব ভালো ছিলেন। এখন পচে গেছেন। ব্যবসায়ী লেখক। ব্যবসা খারাপ না, তবে কিসের ব্যবসা সেটা জানতে হবে। দুধ বেইচা মদ খাই নাকি মদ বেইচা দুধ খাই। মাইয়ার বান্ধবি শাওনরে বিয়া করাডা আমার কাছে অতো দোষের মনে হয় না। সেইদিক দিয়া হুমায়ুনরে ব্যক্তি হিসেবে আলাদাই ভাবতাছি। তবে বাংলাদেশের আমজনতারা এখনও আমার মতো এতো ডাইনামিক :-) চিন্তা করার পারে না। তাই এসব টাইপ লোকদের এরম অসম প্রেম একটু ভাইবা চিন্তা করনের কাম। ধরেন যেমন হুমায়ুনপাঠক আছেন তেনারা যদি এইসব অসমপ্রেম আর বিয়া করন শুরু করে তাইলে কি অবস্থা দাড়াইব?
লেখান হুমায়ুন আহমেদ - আপনার বাবা একজন শহীদ ব্যক্তি। আপনার প্রথম জীবনের দু:খকষ্টগুলো পড়েছি, জেনেছি। আপনার সহ পুরো পরিবারের প্রতি সমব্যথী, সহমর্মী হয়েছি। আপনার প্রথম দিকের লেখাগুলো আমি আজো পড়ি। ‘জনম জনম’ নামে একটি অসাধারণ উপন্যাস (আফসোস, এটাকে নিরন্তর নামে একটা ফালতু ছবি বানাইছে সাইদ) যিনি লিখতে পারেন তার কাছ থেকে আরো অনেক কিছু আশা করি। অথচ আপনি সবাইকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে আপনার মতোই লিখে চলেছেন। সম্প্রতি আপনি পত্রিকায় এদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে নিয়ে নাকি বিভ্রান্তিকর কথা বলেছেন। আমি সেসব মিস করেছি তাই বিশদ মন্তব্য করছি না। তবে আপনার কাছ থেকে আজো মুক্তিযুদ্ধের উপর কোনো ভালো লেখা পাইনি (জোছনা ও জননীকে গোণায় ধরি না)। রাজাকারদের বিরুদ্ধে একটা উঁচু শব্দ আপনার কণ্ঠ থেকে বের হতে শুনিনি। শহীদের সন্তান হিসেবে আপনার কর্মকান্ডকে যথেষ্ট মনে হয়নি আমার। আজকে চারিদিকে আপনাকে নিয়ে অতি স্বাভাবিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে যা আমার মনে হয়েছে আরো আগেই শুরু হতে পারত। এতোসব ডামাডোলের মতো আপনি কেমন আছেন এখন? এই যে হুমায়ুন … ভালো আছেন তো? এই যে হুমায়ুন ….ভালো আছেন তো?
ধুর হালায় দেহি কানে হুনে না।
এ্যারে হুমায়ুন্যা … বালাছোত নি?